ণ-ত্ব বিধান অনুসারে অশুদ্ধ বানান কোনটি?

Updated: 1 year ago
  • ক
    ধরন
  • খ
    পরিবহণ
  • গ
    গুহকোণ
  • ঘ
    মুল্যায়ণ
673
ব্যাখ্যাঃ

বাংলা বানানে মূর্ধন্য-ণ (ণ) এবং দন্ত্য-ন (ন) ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে। এটি শুধুমাত্র তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দেশি, বিদেশি বা তদ্ভব শব্দের ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়।

ণ-ত্ব বিধানের মূল নিয়ম হলো:

        
  • ঋ, র, ষ বর্ণের পর দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: ঋণ, কারণ, ভীষণ।
  •     
  • যদি ঋ, র, ষ এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গীয় বর্ণ (ক, খ, গ, ঘ, ঙ), প-বর্গীয় বর্ণ (প, ফ, ব, ভ, ম), য, ব, হ অথবা অনুস্বার (ং) থাকে, তাহলেও দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ।
  •     
  • ট-বর্গীয় বর্ণের সাথে যুক্ত ন সবসময় ণ হয়। যেমন: কণ্টক, লুণ্ঠন।
  •     
  • কিছু শব্দে স্বভাবতই 'ণ' ব্যবহৃত হয়, যেমন: লবণ, পণ্য, মণ, পাণি, বাণিজ্য, চাণক্য, মাণিক্য, গুণ, নিপুণ, বেনু, ফণী, অণু, কল্যাণ, গণ, বাণ, বীণা, শাণ, শোণ, কোণ, ভাণ, স্থাণু ইত্যাদি।
  •     
  • তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধান খাটে না এবং এক্ষেত্রে সর্বদা 'ন' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ধরন, কোরান, গভর্নর।

এবার প্রদত্ত অপশনগুলো বিশ্লেষণ করা যাক:

        
  • ১. ধরন: এটি একটি তদ্ভব শব্দ। তাই এখানে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয় এবং 'ন' ব্যবহার সঠিক। বানানটি শুদ্ধ।
  •     
  • ২. পরিবহণ: এটি একটি তৎসম শব্দ। এখানে 'র' এর পর 'হ' থাকলেও ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী 'ণ' হয়। 'পরি' উপসর্গের পর 'বহ' ধাতু থেকে আগত এই শব্দটির বানান 'পরিবহণ' শুদ্ধ।
  •     
  • ৩. গুহকোণ: 'কোণ' একটি তৎসম শব্দ এবং এটি স্বভাবতই 'ণ' দিয়ে গঠিত হয়। 'গুহক' শব্দের সাথে যুক্ত হয়েও 'কোণ' এর 'ণ' বজায় থাকে। বানানটি শুদ্ধ।
  •     
  • ৪. মুল্যায়ণ: এই শব্দটির সঠিক বানান হলো 'মূল্যায়ন'। এটি 'মূল্য' শব্দের সাথে 'আয়ন' প্রত্যয় যোগে গঠিত। 'আয়ন' প্রত্যয়ে সাধারণত 'ন' ব্যবহৃত হয়, 'ণ' নয়। তাই 'মুল্যায়ণ' বানানটি ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী অশুদ্ধ। এটি 'মূল্যায়ন' হবে।

সুতরাং, ণ-ত্ব বিধান অনুসারে অশুদ্ধ বানানটি হলো মুল্যায়ণ।

Sumaiya Mim
Sumaiya Mim
3 months ago

১. ণত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই। সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য- ন-এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।
ণ ব্যবহারের নিয়ম
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন – ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন – ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি। ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন – কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, v.
অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ)। এরূপ – রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি ৷
-
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়

চাণক্য মাণিক্য গণ
বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা ।
কল্যাণ শোণিত মণি
স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা ।
আপণ লাবণ্য বাণী
নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ ৷
চিক্কণ নিক্কণ তূণ
কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ ৷


সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন – ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক। ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়। যেমন – অন্ত,গ্রন্থ, ক্রন্দন।

২. ষ-ত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’–এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।
ষ ব্যবহারের নিয়ম
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন— ভবিষ্যৎ (ত্ + অ + ব্ + ই + ) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন – অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান >
৩.‘ঋ’ এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ
৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা : পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা : কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি ।
জ্ঞাতব্য
ক. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন— জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
খ. সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

Related Question

View All
Updated: 2 months ago
  • ক
    মুমূর্ষু
  • খ
    ভাষা
  • গ
    প্রতিষ্ঠান
  • ঘ
    কষ্ট
106
Updated: 2 months ago
  • ক
    বৃষ্টি
  • খ
    আষাঢ়
  • গ
    কষ্ট
  • ঘ
    উপনিষৎ
71
Updated: 3 months ago
  • ক
    শ্রাবণ
  • খ
    হরিণ
  • গ
    নিপুণ
  • ঘ
    ঘন্টা
106
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই